অনলাইনে ইনকাম করার উপায়
বর্তমান দুনিয়া দাঁড়িয়ে আছে তথ্য প্রযুক্তির উপর। আর এই তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে প্রফেশনালভাবে। বর্তমান যুগে দিন দিন ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করার সম্ভাবনা ও সুযোগ বেড়েই চলেছে।অনেকেই চিরাচরিত চাকরির পরিবর্তে অনলাইন ইনকামকে তাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বাচাই করছেন। আর এই আর্টিকেলটিতে আমরা জানবো এমনই কিছু সম্ভাবনাময় অনলাইন কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে।
প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে, আমরা আপনাদের অনলাইন ইনকামের সাধারণ থেকে এডভান্সড ক্ষেত্রগুলোর উল্লেখ করে রেখেছি। শুধুমাত্র দক্ষতা ব্যবহার করে আপনি কাজ শুরু করতে পারবেন।
এমন কাজের পাশাপাশি ইনভেস্ট করেও আয়ের অসাধারণ সুযোগ রয়েছে এমন প্লাটফর্মের উল্লেখও রয়েছে আমাদের এই আর্টিকেলে।
অনলাইনে ইনকাম করার উপায়?
নিচে অনলাইনে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১. ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয়
আপনি চাইলে ওয়েবসাইট বানানো কাজ শিখে মোটামুটি মানের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেটি বিক্রি করে অনলাইনে বেশ ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে কেবল একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে।
কোডিং না জানলে ও হবে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা ব্লগারে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে কিছু লেখা পাবলিশ করে সেটি মনিটাইজ করে বিক্রি করতে পারেন। এখন এডসেন্স অ্যাপ্রুভ ওয়েবসাইটের দাম প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা।
তাই, আপনি চাইলে সহজেই অনলাইনে ইনকাম করার জন্য এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারেন। ট্র্যাফিক কোয়ালিটি ভেদে এডসেন্স ওয়েবসাইটের দামে বিভিন্ন তারতম্য দেখা যায়। যেমনঃ
- সদ্য অ্যাপ্রুভ হওয়া সম্ভাব্য ওয়েবসাইটের বর্তমান দাম হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকা।
- পিন ভেরিফাইড করা ওয়েবসাইটের বর্তমান দাম হচ্ছে ২০-৩০ হাজার টাকা।
- পেমেন্ট রিসিভ হওয়া ওয়েবসাইটের বর্তমান দাম হচ্ছে ৩০-১ লাখ টাকা পযন্ত।
২. ডোমেইন হোস্টিং বিক্রির মাধ্যমে ইনকাম
ডোমেইন হোস্টিং বিক্রির মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে আগে ডোমেন কি ডোমেন কিভাবে কাজ করে এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।
আমাদের এই ওয়েবসাইটের নাম bekarit.com একটি ডোমেইন। একটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন এবং হোস্টিং থাকা লাগে। ডোমেইন হচ্ছে একটি নাম এবং হোস্টিং হচ্ছে সেটার স্টোরেজ। হোস্টিংয়ে ওয়েবসাইটের সকল তথ্য জমা থাকে।
আপনি চাইলে ভাল কোনো কোম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে রিসেল করে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনেকেই এখন ডোমেইন হোস্টিং এর ব্যবসায় করে ২০২৫ সালে অনলাইনে ইনকাম করছে।
৩. ব্লগিং করে আয়
অনলাইনে ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে সেরা ও অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ব্লগিং। ব্লগিং করে এখন অনেক মানুষ মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকার বেশি ইনকাম করছে। আপনিও চাইলে এই ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করতে পারেন।
এজন্য প্রথমে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে। এরপর সেখানে লেখালেখি করতে হবে। লেখালেখি করে ইনকাম করতে আপনাকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না। কিন্তু আপনি দীর্ঘসময় যাবত ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে একটি ডোমেইন কিনতে হবে।
আপনি চাইলে ব্লগার দিয়ে ও ফ্রিতে ব্লগিং করতে পারবেন। কিংবা অন্যথায় আপনি হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করতে পারেন। ব্লগিং করে ইনকাম করার জন্য আপনাদের ওয়েবসাইট গুগল এডসেন্স কিংবা অন্য কোন এড নেটওয়ার্ক দিয়ে মনিটাইজ করে নিতে হবে।
ব্লগাররা গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে এখন মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছেন। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
৪. আর্টিকেল লিখে ইনকাম
বর্তমান যুগে এসে আপনি আর্টিকেল লিখেও অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। আপনার যদি লেখালেখি করার অভ্যাস থাকে অথবা আপনি আর্টিকেল লিখে ইনকাম করতে চান। তবে অবশ্যই আপনি ইনকাম করতে পারবেন।
এজন্য আপনি জানেন বা আপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কোন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন। ধরুন আপনার খেলাধুলা বা স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশ ভাল একটা অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহলে আপনি এসব বিষয় নিয়ে ব্লগ আর্টিকেল লিখে সেগুলো বিক্রি করে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
অনেকেই এখন ব্লগ আর্টিকেল লিখে মার্কেটপ্লেস থেকে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করছেন। এখানে আর্টিকেল লেখা বলতে আমি বুঝানোর চেষ্টা করছি। আপনাকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে লিখতে হবে যা মানুষ জানতে চায় বা সে বিষয়ে মানুষের কৌতূহল রয়েছে।
যেমনঃ আপনার যদি মোবাইল ফোনের দাম সম্পর্কে জানার ইচ্ছে থাকে। তবে আপনি গুগলে সার্চ করে থাকেন। এমন সারা পৃথিবীতে প্রায় মানুষেই বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে থাকে।
মানুষ যেসব বিষয় নিয়ে গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে থাকে, আপনাকে সেসব বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। আপনি যদি আর্টিকেল লিখতে পারেন।
তবে অনলাইনে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেগুলোতে আপনি আপনার আর্টিকেল বিক্রি করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেমনঃ ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক। এসব মার্কেটপ্লেসে গেলে আপনি দেখবেন একজন কন্টেন্ট রাইটারের কেমন চাহিদা।
প্রতিনিয়ত অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে। এসব ওয়েবসাইটের জন্য দরকার পড়ে কন্টেন্ট রাইটার। যারা এসব ওয়েবসাইটের জন্য বিভিন্ন তথ্য লিখে থাকবে। তাই আপনিও এই সেক্টরে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
৫. গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে ইনকাম
গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে ইনকাম করতে চাইলে আপনি সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। মার্কেটপ্লেস এ একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের অনেক দাম।
আপনি যদি একজন ভাল মানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। তবে এই সেক্টরে সহজেই সফল হতে পারবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বিভিন্ন ধরণের লোগো, ফেস্টুন, পোস্টার, ব্যানার, ডিজাইন করে থেকে।
কেউ যদি নতুন কোন কোম্পানি খুলে, তবে তার কোম্পানির জন্য লোগো, ব্যানার ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। (আর এক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের)। গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য আপনাকে প্রথম গ্রাফিক্স ডিজাইন ভালভাবে শিখতে হবে।
এজন্য আপনি কোন কোর্স করতে পারেন, কিংবা ইউটিউব ভিডিও দেখেও শিখতে পারেন। তবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে আপনাকে অনেক সময় দিতে হবে।
তাড়াহুড়া করে একদিনেই গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা সম্ভব না। গ্রাফিক্স ডিজাইন করার সময় আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা ফুটে উঠবে।
৬. ওয়েব ডিজাইন করে আয়
ওয়েব ডিজাইন করে ইনকাম করার উপায় রয়েছে। ওয়েব ডিজাইনও সেরা ইনকাম উপায় গুলো মধ্যে একটি অন্যতম। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এখন প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে।
আপনি এখন যে আমার লেখাটি পড়ছেন, এটি ও একটি ওয়েবসাইট থেকেই পড়ছেন। সবাই তার ব্যবসায় বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে থাকে। এজন্য প্রয়োজন হয় একজন ওয়েব ডিজাইনারের।
যিনি তার ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট ডিজাইন করে থাকেন। আপনি চাইলে ওয়েব ডিজাইন শিখে এই সেক্টরে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য ইউটিউব ব্যবহার করতে পারেন কিংবা যেকোন কোর্স করতে পারেন। আপনি যদি একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার হতে পারেন।
তবে তো ওয়েব ডিজাইন করেই বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনেকেই ফ্রিল্যান্সার, ফাইবার, আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেসে শুধু মাত্র ওয়েব ডিজাইন করে অনলাইন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছেন।
৭. ডিজিটাল মার্কেটিং করে অনলাইন ইনকাম
ডিজিটাল মার্কেটিং করে অনলাইন ইনকাম সবাই করতে চায়। সবকিছুই যেহেতু এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। তাই ব্যবসায়ও হয়েছে ডিজিটাল। তাই আধুনিক ব্যবসায় প্রসার করার জন্য মার্কেটিং ও করতে হয় ডিজিটাল ভাবে।
আপনার যদি একটি ব্যাবসায় থাকে, তবে অধিক কাস্টমার পাওয়ার জন্য আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং করা উচিত। এছাড়াও আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে অন্যের হয়ে মার্কেটিং করে দিয়ে অথবা মার্কেটপ্লেসে কাজ করে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রসার অনেক। তাই অনেক সময় নিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অথবা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে পণ্য অথবা সেবা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়ে ছবি বা ভিডিও বানিয়ে তা অন্যদের মাঝে পৌঁছানোর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। অপরদিকে আবার সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে এসইও করে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়ে থাকে।
৮. প্রোগ্রামিং শিখে আয়
প্রোগ্রামিং হচ্ছে অনলাইনে ইনকাম করার জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি উপায়। আপনি যদি প্রোগ্রামিং শেখার জন্য দৈনিক কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে পারেন। তবে যেকোন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা ভালমতো রপ্ত করতে পারলে, সেটি দিয়ে কোন অ্যাপ/সফটওয়্যার বানিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।
প্রোগ্রামিং হচ্ছে ধৈর্য ধরে শেখার জিনিস। আপনাকে প্রোগ্রামিং শিখতে হবে এবং এর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চর্চাও করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে চর্চা করতে হবে তাহলে যে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সহজে রপ্ত করতে পারবেন।
আপনি যদি একজন ভাল মানের দক্ষ প্রোগ্রামার হতে পারেন তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানি গুগল কিংবা ফেসবুক অথবা আমাজন এ চাকরি পেতে পারেন। একজন ভাল দক্ষ প্রোগ্রামারের বেতন নিয়ে কখনো চিন্তা করতে হয় না।
আপনি একজন ভাল দক্ষ প্রোগ্রামার হতে পারলে টাকা আপনার পিছে পিছে দৌড়াবে, আপনাকে টাকার পিছে দৌড়াতে হবে না। এছাড়া আপনি প্রোগ্রামিং শিখলে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন বাসায় বসেই।
ফ্রিল্যান্সিং করে বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এর কাজ কিংবা রিমোট জব করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি স্বাধীন পেশা। তাই আপনি যদি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে চান। তবে প্রোগ্রামিং হতে পারে আপনার অন্যতম পছন্দ।
অথবা আপনার যদি কোন সফটওয়্যার ডেভেলপার কিংবা অ্যাপ ডেভেলপার হওয়ার ইচ্ছে থাকে। তবে আপনি যেকোন প্রোগ্রামিং ভাষা শিখতে পারেন। প্রোগ্রামিং ভাষা শিখে যেকোন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস বা কম্পিউটার সফটওয়্যার বানাতে পারবেন, যা দিয়ে সহজেই ইনকাম করা সম্ভব।
৯. ফেসবুক থেকে আয়
অনলাইনে ইনকাম করতে চাইলে ফেসবুক হতে পারে আপনার জন্য একটি সহজ উপায়। পৃথিবীর সবচাইতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে এই ফেসবুক। প্রতিদিনেই ফেসবুকে প্রায় লক্ষাধিক নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে।
আপনারও নিশ্চই একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আপনি চাইলে ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনার একটি ফেসবুক পেজ কিংবা ফেসবুক গ্রুপ থাকতে হবে।
ফেসবুকের নতুন আপডেটে এখন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রিল ভিডিও আপলোড করেও ইনকাম করা যায়। এজন্য আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি প্রফেশনাল মোড অন করতে হবে।
১০. ফেসবুক পেজ এবং ভিডিও থেকে ইনকাম
আপনার যদি একটি ফেসবুক পেজ থেকে থাকে, তবে সেই ফেসবুক পেজ থেকে ও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনার ফেসবুক পেজে প্রতিনিয়ত সুন্দর সুন্দর ভিডিও আপলোড করতে হবে।
যখন আপনার ফেসবুক পেজের সর্বশেষ ৬০ দিনের ভিতর প্রতি তিন মিনিট ভিডিওতে, কমপক্ষে এক মিনিট ভিউ হবে ৩০,০০০ এবং ১০০০ লাইক বা ফলোয়ার হবে।
তখন আপনি ফেসবুক থেকে খুব সহজেই মনিটাইজ পেয়ে যাবেন। ফেসবুক থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে সর্বনিম্ন একশত ডলার হলে উত্তোলন করতে পারবেন।
১১. ই-মেইল মার্কেটিং থেকে আয়
বর্তমান সময়ে অনলাইনে আয়ের অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে ই-মেইল মার্কেটিং ও অন্যতম। আপনার ফোনে একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট তো অবশ্যই রয়েছে, তাই না? এখন প্রায় প্রতিটা ফোন কিংবা কম্পিউটারে ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থাকে।
এছাড়া আমরা যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করি। তাদের একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকেই। এই ই-মেইল ব্যবহার করে মূলত মার্কেটিং করা হয়। ই-মেইল মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজন হয় অনেক সংখ্যক ই-মেইল অ্যাড্রেস।
যার মাধ্যমে আমরা সবার মেইলে আমাদের অ্যাফিলিয়েট লিংক কিংবা আমাদের প্রোডাক্ট অথবা আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে মেইল করতে পারি।
বর্তমান সময়ে day by day ই-মেইল মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আপনি অনলাইনে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে চাইলে ই-মেইল মার্কেটিং কে বেছে নিতে পারেন।
১২. ইউটিউব ভিডিও থেকে আয়
ইউটিউব হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্ম। যেখানে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ মিলিয়ন মিলিয়ন ভিডিও আপলোড করতেছে। আমরা প্রায় সবাই ইউটিউব দেখে থাকি।
আমরা আমাদের প্রয়োজনে অনেক ভিডিও এইখান থেকে দেখে থাকি। যেগুলো থেকে আমরা খুব সহজে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেয়ে যাই। যারা ইউটিউবে এত কষ্ট করে ভিডিও বানায়, তারা কিন্তু ইনকাম করার উদ্দেশ্যেই ভিডিও বানিয়ে থাকে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে গেম খেলে টাকা ইনকাম করার অ্যাপস
তাই আপনিও যদি চান তবে ইউটিউবে মানুষের প্রয়োজন রয়েছে এমন ভিডিও বানিয়ে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এ সময়ে ইউটিউব ভিডিও থেকেও ইনকাম করতে পারবেন সহজেই।
ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। সেই চ্যানেলে প্রতিনিয়ত সুন্দর মানসম্মত ভিডিও আপলোড করতে হবে। আপনি যেকোন ধরণের ভিডিও আপলোড করতে পারেন,
কিন্তু মানুষের যেগুলো দরকার সে ধরণের ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করবেন। যখন আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে চার হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম পূর্ণ হবে এবং এক হাজার সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হবে তখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
গুগল অ্যাডসেন্সের থেকে আপনার চ্যানেলে মনিটাইজেশন পেয়ে গেলে অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে দেখিয়ে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
এছাড়াও আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা কোন কোম্পানির স্পন্সর করে ও টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
শেষ কথা
এই আর্টিকেলে অনলাইন ইনকাম প্রতিষ্ঠিত করার সেরা কয়েকটি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। যেগুলোর মাঝে থেকে আপনি আপনার যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোন একটি বেছে নিতে পারেন আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার হিসেবে।
যেখানে কাজ করে আপনি যশ ও খ্যাতি উভয়ই পেতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই একটু ভাবনা-চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। যে কাজটি আপনার ভাল লাগে, যে কাজে আপনার মন বসবে কাজ করে শান্তি পাবেন।
যেটি আপনি দীর্ঘদিন যাবত চালিয়ে যেতে পারবেন। আমি মনে করি সেটি আপনার নির্বাচন করা উচিত। তবেই সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছাতে পারবেন। আর্টিকেলটি পড়ে কোন বিষয় যদি না বুঝে থাকেন। তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
আর আর্টিকেলটি যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। এরকম জানা অজানা তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।