অনলাইন ইনকাম

শাটারস্টক থেকে ইনকাম করার উপায়

ShutterStock কে বিশ্বের জনপ্রিয় ফটোগ্রাফির মার্কেটপ্লেস বলা হয়। এই মার্কেটপ্লেসটি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আসছে। মাসে প্রায় ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ ওয়েবসাইটটিতে ভিজিট করে। শাটারস্টক কিওয়েবসাইটটিতে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ফটোগ্রাফি, ভিডিও ফুটেজ ও মিউজিক রয়েছে। এই ওয়েবসাইটির রয়েছে কয়েক বিলিয়ন ক্রেতা। সাইটটি বর্তমানে প্রতি ছবি বিক্রির জন্য ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন দেয়।

আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব শাটার স্টক কি, শাটার স্টকে কিভাবে ছবি আপলোড করবেন এবং Shutter Stock এ কিভাবে ছবি বিক্রি করে আয় করবেন। তাহলে চলুন শুরু করার যাকঃ

শাটার স্টক কি?

শাটার স্টক হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তি কোম্পানী। সাধারণত শাটার স্টকে বিভিন্ন ধরনের ছবি, ভিডিও, মিউজিক ও ইডিটরিয়াল সম্পদ সরবরাহ থাকে। মূল বিষয় হচ্ছে শাটার স্টক একটি ফটোগ্রাফি স্টক এজেন্সি।

শাটার স্টক প্রযুক্তি কোম্পানীটি ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইহা আন্তর্জাতিক মানের একটি কোম্পানি। যেখানো মিলিয়ন মিলিয়ন ছবি ও ভিডিওর স্টক রয়েছে।

এখান থেকে আপনারা ছবি, ভিডিও, মিউজিক ও ইডিটরিয়াল সম্পদ ইত্যাদি ডাউনলোড করতে পারবেন। আর আপনারা চাইলে ছবি আপলোড করে ইনকামও করতে পারেন। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন তাহলো সরাসরি যদি শাটার স্টকে একাউন্ট করেন।

তাহলে কিন্তু আপনি আয় করতে পারবেন না। আর তাই শাটার স্টক থেকে আয় করার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট তৈরি করতে হবে। কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট তৈরি করা খুবই সোজা।

এই ওয়েবসাইট থেকে ক্রিয়েটররা যেকোন ছবি ও ভিডিও ডাউনলোড করে আপনার ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এতে কোন ধরনের কপিরাইটের ঝামেলা নেই। যেকেউ চাইলে এখান থেকে ছবি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

শাটার স্টকে কিভাবে ছবি আপলোড করবেন?

শাটার স্টকে ছবি আপলোড করার জন্য অবশ্যই আপনার একটি কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট থাকা প্রয়োজন। চলুন জেনে নেই কিভাবে শাটার স্টকে ছবি আপলোড করবেনঃ

১. ছবি আপলোড করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার অবশ্যই একটি কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট লাগবে।

২. একাউন্টটি করা হয়ে গেলে শাটার স্টক ড্যাশবোর্ড আপনি দেখতে পাবেন।

৩. এরপর “Upload” নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন সেটাতে ক্লিক করবেন।

৪. এরপরে আপনার ফাইল ম্যানেজার থেকে ছবি আপলোড করে নিবেন।

বিঃদ্রঃ

তবে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন শাটার স্টক Ai দ্বারা তৈরি ছবি গ্রহণ করে না। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন তাহলো ছবির কোয়ালিটি যেন হাই হয়। আর ছবির সাইজ যেন মিনিমাম ৪ MB হয় এবং মেক্সিমাম ৪৫ MB এর ভিতরে হয়।

আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন তাহলো ছবি যখন তুলবেন তখন Property কিংবা Details চেক করলে দেখতে পাবেন IMG_826627628 এর নাম্বার দেওয়া থাকবে।

এরকম ছবি কখনো আপলোড করবেন না। ছবিটি কোন ধরনের তার নাম দিয়ে আপনি রিনেম করে নিবেন।অর্থাৎ পিকচার যদি কবুতরের হয় তাহলে পিকচার নাম থাকবে Pigeon ঠিক এইভাবেই পিকচার রিনেম করে নিবেন।

শাটারস্টক থেকে ইনকাম করার উপায়?

১. একাউন্ট খোলা (Contributor Account)

শাটারস্টকে ইনকাম করতে হলে প্রথমেই আপনাকে Shutterstock Contributor হিসেবে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ওয়েবসাইট: submit.shutterstock.com

২. ফটো/ভিডিও/ডিজাইন তৈরি

  • আপনি যদি ফটোগ্রাফার হন তাহলে সুন্দর ও ইউনিক ফটো তোলার চেষ্টা করুন।
  • গ্রাফিক ডিজাইনার হলে ভেক্টর, আইকন, ব্যানার বা লোগো ডিজাইন তৈরি করুন।
  • ভিডিওগ্রাফার হলে স্টক ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে আপলোড করতে পারেন।

৩. হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরি করা

  • শাটারস্টক কেবল হাই রেজোলিউশন এবং প্রফেশনাল মানের কনটেন্ট গ্রহণ করে।
  • ছবির রেজোলিউশন কমপক্ষে ৪ মেগাপিক্সেল হওয়া উচিত।

৪. টাইটেল, ডিসক্রিপশন এবং কীওয়ার্ড দেওয়া

প্রত্যেকটি ফটো বা ভিডিও আপলোড করার সময় অবশ্যই প্রাসঙ্গিক টাইটেল, বিবরণ (Description) এবং ৭-৫০টি কীওয়ার্ড দিতে হবে যাতে কাস্টমাররা সহজে খুঁজে পায়।

৫. মডেল ও প্রপার্টি রিলিজ (যদি প্রয়োজন হয়)

যদি আপনার ছবিতে মানুষের মুখ বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই মডেল বা প্রপার্টি রিলিজ ফর্ম জমা দিতে হবে।

৬. আপলোড এবং সাবমিশন

সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পূরণ করার পর কনটেন্ট আপলোড করুন। শাটারস্টকের রিভিউ টিম কনটেন্ট চেক করে অ্যাপ্রুভ করলে সেটি মার্কেটপ্লেসে দেখা যাবে।

৭. বিক্রি এবং কমিশন

আপনার কনটেন্ট কেউ কিনলে বা ডাউনলোড করলে আপনি কমিশন পাবেন। সাধারণত প্রতি ডাউনলোডে $0.10 থেকে $2+ পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়।

৮. পেমেন্ট অপশন সেট করা

পেমেন্টের জন্য আপনি Payoneer, PayPal বা Skrill অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত Payoneer সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।

৯. রেগুলার কনটেন্ট আপলোড করুন

আপনি যত বেশি ইউনিক ও হাই-কোয়ালিটি কনটেন্ট আপলোড করবেন, তত বেশি ইনকামের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি সপ্তাহে নতুন কনটেন্ট আপলোড করা লাভজনক।

১০. ট্রেন্ড ফলো করুন

বর্তমান সময়ে কোন ধরণের ছবি বা ভিডিও বেশি বিক্রি হচ্ছে, তা বুঝে সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করলে বিক্রির সম্ভাবনা বাড়ে।

কিছু টিপস

  • Nature, Business, Technology, Education, Fitness এসব থিমে কনটেন্ট তৈরি করুন।
  • ক্যামেরা বা স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ছবিও যদি হাই-কোয়ালিটি হয়, সেটিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
  • Keywords এবং Description লেখায় মনোযোগ দিন এগুলো SEO তে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শাটারস্টক ইনকাম উদাহরণ (আনুমানিক)

ডাউনলোড সংখ্যা  →  মাসিক ইনকাম (USD)

  • ১০০ ডাউনলোড $30 – $80
  • ৫০০ ডাউনলোড $200 – $400
  • ১০০০ ডাউনলোড $500+

সত্যি বলতে আপনার কাজের উপর নির্ভর করে টাকা ইনকাম হবে। আপনি যদি পিকচার বেশি পরিমাণ আপলোড করেন। তাহলে আপনার আপলোড করা পিকচার বা ভিডিও যত বেশি ডাউনলোড করবে।

আপনি তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর এ ওয়েবসাইটের ইনকাম হিসাব করা হয় কিছু পার্সেন্টিজের উপর। যেমনঃ শাটার স্টক যদি প্রতি ডাউনলোডের জন্য ১০% দেয়। তাহলে আপনার ইনকাম হবে ঠিক ঐরকম।

আরও পড়ুনঃ অংক করে টাকা ইনকাম

তবে আমি আপনাকে বলতে পারি ছবি বেশি বেশি আপলোড দিলে ইনকামও ইনকাম বেশি হবে। সুতরাং বলা যায় যে বেশি বেশি পিকচার আপলোড করার চেষ্টা করবেন।

একদিনে প্রয়োজন হলে ২৫ থেকে ৫০ টা পিকচার আপলোড করবেন। তাইলে আপনার ইনকামও অনেক ভালো হতে পারে। আর আপনার পেমেন্ট নেওয়ার জন্য আপনি Payoneer ও Skrill account ব্যবহার করতে পারেন।

FAQs: শাটারস্টক থেকে ইনকাম করার উপায়

প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে আপলোড করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, যদি ছবির রেজোলিউশন ভালো হয় এবং ফোকাস ঠিক থাকে তবে শাটারস্টক গ্রহণ করতে পারে।

প্রশ্ন: পেমেন্ট কিভাবে পাবো?

উত্তর: আপনি Payoneer বা PayPal-এর মাধ্যমে মাস শেষে পেমেন্ট নিতে পারেন (মিনিমাম $35 আয় হলে)।

প্রশ্ন: কত দিনে অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হয়?

উত্তর: সাধারণত ১–৫ কর্মদিবসে Contributor অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হয়।

শেষ কথা

আপনি শাটার স্টকে ঢুকলে শুধুমাত্র পিকচার কিংবা ভিডিও ডাউনলোড দিতে পারবেন। কিন্তু আপনার কোন আয় হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আপনার একটি কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট।

তবে ছবি আপলোড করলে শাটার স্টকের রিকুয়ারমেন্ট গুলো দেখাবে। আপনার ছবির কোয়ালিটি কেমন হওয়া উচিত। আর সেই অনুযায়ী ছবি আপলোড করবেন।

কখনোই শাটার স্টকে Ai পিকচার আপলোড করবেন না। কারণ শাটার স্টক Ai দ্বারা তৈরি পিকচার গ্রহণ করে না। আর ছবির সাইজ ৪ থেকে ৪৫ mb এর ভিতরে হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button